as

Saturday, February 6, 2016

গতি বেড়েছে বেসরকারি ঋণ প্রবাহে

গতি বেড়েছে বেসরকারি ঋণ প্রবাহে

গতি বেড়েছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় খাতটির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের এ হার প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারার প্রেক্ষিতে মুদ্রানীতিতে ঘোষিত ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এমনটি করা হতে পারে।
চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৫০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৫০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।নভেম্বরেও তা ছিল ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
সরকারি বিনিয়োগে গতি না থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল ডিসেম্বর শেষে তা টেনেটুনে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে ঘোষিত  মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থবছরের শুরুতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হলেও ছয় মাস পরে তা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রাক্কলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ প্রবাহে চাঙ্গাভাব আনতে নীতি সুদহারও কমিয়ে আনা হয়। তবে গত ডিসেম্বরেই তিন বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা গেল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি থাকলেও এক মাস পরে তা ১৪ শতাংশে নেমে আসে। এরপর থেকে এবারই প্রথম বারের মতো বেসরকারি ঋণের প্রবাহ ১৪ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে গেল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়ে। পরবর্তীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রলম্বিত হওয়ায় ঋণ প্রবাহে মন্দাভাব বজায় ছিল।
তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমে আসার ফলে ঋণ প্রবাহে আবার গতি এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে তা আরও বাড়তে পারে। এমনটি হলে চলতি মুদ্রানীতির বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রাক্কালন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের এই উল্লম্ফন সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, এখন ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। আমরাও চাই এটা ১৫ শতাংশ হোক।
তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ঘোষণা পর অনেকেই ঋণ প্রবাহের প্রাক্কালনকে সমর্থন করেননি। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকলে নিজে থেকেই বাড়িয়ে রাখা যায় না। এতে অন্য সমস্যা তৈরি হয়।
প্রবৃদ্ধি ধারা ফিরে আসায় ঋণ প্রবাহের প্রাক্কলন পুনর্বিবেচনার বিষয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারির হিসাবটা আসুক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আমরা আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।

No comments:

Post a Comment